সিসি নিউজ : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’র আওতায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন তহবিল ব্যবহারের জন্য ৪ ব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপটি গভর্নরবৃন্দ, প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক, উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
বৈদেশিক মূদ্রায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন তহবিল পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রজেক্ট ডাইরেক্টর মোঃ আহসন উল্লাহ্র সাথে মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ও আল-অরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহীদের/ব্যাংক মনোনীত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণমূলক-চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অচিরেই যোগ্যতাসম্পন অন্যান্য ব্যাংকসমূহের সাথে অংশগ্রহণমূলক-চুক্তি স্বাক্ষর হবে গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকার আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তার অংশ হিসেবে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন খাতে অগ্রগতির সময়ভিত্তিক প্রক্ষেপন বা রূপরেখা উল্লেখপূর্বক সরকার ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২১’ প্রণয়ন করেছে। সরকারী ও বেসরকারী উভয়খাতে বছর-ওয়ারী বিনিয়োগের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক আগামী ২০২১ সালে ৩৮ শতাংশ হবে বলে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বেসরকারী খাতই দেশে বিনিয়োগের প্রধান চালিকা শক্তি বিবেচনায় এখাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরী। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীলকরণের পূর্বশর্ত হিসেবে বেসরকারী খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানো অত্যাবশ্যক।¬
উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন কিংবা নতুন কারখানা স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নতুন ও উন্নত কারিগরী মানসম্পন্ন মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানী করার প্রয়োজন । আর এতে দরকার দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ। কিন্তু উচ্চ সুদে দীর্ঘমেয়াদে এধরণের বিনিয়োগের আর্থিক উপযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশের উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছেনা এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ কাঙ্খিত মাত্রায় সফলতা অর্জন করতে পারছেনা। এই প্রতিকূলতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’র আওতায় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠন গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ অর্থ বিশ্বব্যাংক সরবরাহ করবে এবং বাকী অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবে। এ তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে উৎপাদনশীল শিল্প খাতে ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী এই তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহার করে শিল্প খাতের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি খাতের পূর্ণমাত্রার স¤প্রসারণ ঘটাতে সক্ষম হবে। তবে এই উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পরিবেশগত কোনো ঝুঁকির সৃষ্টি না হয় সেই দিকে কঠোর নজর রাখার ব্যাপারেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন গভর্নর মহোদয়। দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের এই প্রচেষ্টায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা করেন।
এ তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সুশাসনের দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট মান অর্জনের পরই ব্যাংকগুলো এ তহবিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস্ সূচক অনুযায়ী তাদের প্রযোজ্য হার নির্ধারিত হবে। এতে করে সুশাসনের মানোন্নয়নের সাথে সাথে ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রণোদনাও থাকছে।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো এ তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী বৈদেশিক মূদ্রায় ঋণচাহিদা পূরণের ফলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বৈদেশিক ঋণগ্রহণের পরিমাণও হ্রাস পাবে। এসব বাণিজ্যিক ঋণের স্বল্প মেয়াদের পরিশোধসূচীর পরিবর্তে এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পরিশোধসূচীর সুবিধা গৃহীত হলে দেশের লেনদেন ভারসাম্যেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে তাদের সর্বাত্বক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক বিনিয়োগকারী চিহ্নিতপূর্বক এ তহবিল সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশজ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান গভর্নর । তিনি এ কর্মকান্ডে পাশে থাকার জন্য সরকার, বিশ্ব ব্যাংক, অংশগ্রহণকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সর্বোপরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকেও ধন্যবাদ জানান।